1. tasermahmud@gmail.com : admi2017 :
  2. akazadjm@gmail.com : Taser Khan : Taser Khan
বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:০৬ অপরাহ্ন

অধিকার’র রিপোর্ট : দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয়বারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। আশা করা গিয়েছিল, বাংলাদেশের স্বাধীনতার অগ্রনায়ক এই দলের শাসনে দেশে মানবাধিকারসহ আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিকসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে সুষ্ঠুতা ফিরে আসবে; আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত এবং উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। কিন্তু এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দলটির শাসনে কোনো ক্ষেত্রে অগ্রগতি তো দূরের কথা, সার্বিক পরিস্থিতিরই আরও অবনতি হয়েছে। মানবাধিকার পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দেখলে যেকোনো নাগরিকই আতঙ্কিত না হয়ে পারেন না। মানবাধিকার সংগঠন অধিকার ২০১৯ সালের যে বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতেও এই উদ্বেগের কথাই উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা, সভা-সমাবেশের অধিকার হরণ, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, অনিয়ম-দুর্নীতি এবং জীবন-জীবিকার অধিকার থেকে জনগণকে বঞ্চিত করার বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন ৩৯১ জন। এর মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ ও ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হন ৩৭৬ জন। গুম ৩৪ জন; যাদের মধ্যে ৯ জনের এখন পর্যন্ত কোনো হদিস নেই। বিভিন্ন গুরুতর ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট অপরাধীকে খুব ঠাণ্ডা মাথায় কথিত বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ারে মেরে ফেলার ভয়াবহ প্রবণতা দেখা গেছে গত বছর। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার সাথে যুক্ত মূল অপরাধী বা নেপথ্যের গডফাদারদের আড়াল করার জন্য এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হচ্ছে। এর ফলে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের সুযোগ বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এমনকি আত্মসমর্পণের পরও আটক ব্যক্তি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন বলে জানাচ্ছে ‘অধিকার’। গত বছর গুমের শিকার হন ৩৪ জন। এর মধ্যে লাশ পাওয়া গেছে আটজনের, জীবিত ফিরে এসেছেন ১৭ জন। আর এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি ৯ জনকে। গুমের সাথে অনেক ক্ষেত্রে ‘ভিন্ন মতাবলম্বী’ হওয়ার সম্পর্ক আছে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয়। যে মুহূর্তে দেশে কোনো রাজনৈতিক উত্তেজনা নেই, বিরোধী দলের সন্ত্রাস-সহিংসতা-ভাঙচুর নেই, জঙ্গিবাদের প্রত্যক্ষ হুমকি নেই, সেই সময়ে ২০১৯ সালে এক বছরে দেশে কথিত রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হলেন ৭০ জন। আহত তিন হাজার ৪৬৭ জন। শুধু ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরীণ সঙ্ঘাতেই ৩৯ জন নিহত ও দুই হাজার ৮২৬ জন আহত হয়েছেন। এই পরিসংখ্যান চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, আইনশৃঙ্খলার নাজুক অবস্থা।
প্রতিবেদনে ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘বিতর্কিত ও প্রহসনমূলক’ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ মতা গ্রহণের পর মানবাধিকার লঙ্ঘন, দলীয়করণ ও দুর্বৃত্তায়ন ব্যাপক আকার ধারণ করে। দলীয়করণের মাধ্যমে নাগরিকদের সংবিধানস্বীকৃত কর্ম ও জীবিকার অধিকার পুরোপুরি ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে, যা একাধিক প্রজন্মকে মারাত্মক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। দুর্বৃত্তায়ন কিভাবে ব্যাংক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, তার প্রমাণ এখন দেখা দিতে শুরু করেছে। জাতীয় অর্থনীতির সূচকগুলো প্রায় সবই নি¤œমুখী। প্রবৃদ্ধির উচ্চহার দেখানো হলেও তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। আর্থিক খাতের বিভিন্ন সূচক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রদর্শিত উচ্চহারের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
অধিকার-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতিসঙ্ঘের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তিতে (আইসিসিপিআর) অনুস্বার করলেও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থাকে অকার্যকর করার মধ্য দিয়ে দেশবাসীর নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের তেমন কোনো সাফল্য নেই। গত বছর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে ৪১ জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। আহত হন ৪০ জন। এ ছাড়াও ৩৪ জন বাংলাদেশীকে বিএসএফ ধরে নিয়ে যায়। কিন্তু এসব হত্যা ও নির্যাতনের কোনো ঘটনারই বিচার হয়নি বলে জানিয়েছে অধিকার।
এই পরিস্থিতি কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করে সবাইকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিলেই দেশে আইনের শাসন ফিরে আসতে পারে এবং উন্নয়ন নিশ্চিত হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019-2023 usbangladesh24.com