এই বাক্যগুলোর তাৎপর্য গভীর।
রাখে : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।’
(সুরা আল-আনকাবুত, আয়াত : ৪৫)
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন, নামাজ যে অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে, এটি এমন একটি বিষয় যা মানুষ নিজের মধ্যেই অনুভব করতে পারে। অন্যদিকে যেসব মানুষ অনর্থক বিনোদন ও প্রবৃত্তির অনুসরণে ডুবে থাকে, তাদের অন্তর অনেক সময় অশ্লীলতা ও অন্যায়ের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
(আল-ইস্তিকামাহ : ১/৩১৮-৩১৯)
সুন্নাহ পরিত্যাগ করলে কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে : ইবনুল হাজ্জ (রহ.) বলেন, কোনো ব্যক্তি যখন যথাযথ জ্ঞান অর্জন না করেই আলেমের বাহ্যিক পরিচয় ধারণ করে, তখন মানুষ তাকে আলেম মনে করে বিভিন্ন মাসআলা জিজ্ঞাসা করতে পারে। সে নিজের অজ্ঞতা স্বীকার করতে সংকোচ বোধ করে ভুল ফতোয়া দিতে পারে।
ইবাদত শরীরকে কর্মোদ্যমী করে : হাফিজ ইবনু কাসির (রহ.) বলেন, এটি একটি পরীক্ষিত বিষয় যে ইবাদত শরীরকে কর্মোদ্যমী করে ও কোমল রাখে; আর অতিরিক্ত ঘুম শরীরকে অলস করে এবং কঠোরতা সৃষ্টি করে। (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া : ৯/৩২২)
শরিয়তসম্মত রুকইয়াহ ও আল্লাহর কাছে আরোগ্য প্রার্থনা : শাইখ আবদুল আজিজ ইবনু বাজ (রহ.) জাদুতে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা প্রসঙ্গে কোরআন তিলাওয়াত, পানিতে কোরআন পড়ে তা পান করা এবং তা দিয়ে গোসল করার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি আরো বলেছেন, সবুজ সিদরের সাতটি পাতা পানিতে দিয়ে পিষে ব্যবহার করাও উপকারী হতে পারে—আল্লাহর ইচ্ছায়।
তিনি বলেন, আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে আরোগ্য চাওয়া এবং তাঁর ওপর নির্ভর করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃত আরোগ্যদাতা আল্লাহ তাআলাই।
(ফাতাওয়া নুরুন আলাদ-দারব, ইবনু বায, শুওয়াইয়ির সম্পাদিত : ৩/৩৭৫)
তিনি আরো বলেন, জাদুকর ও গণকদের কাছে যাওয়ার পরিবর্তে শরিয়তসম্মত রুকইয়াহ ও দোয়ার মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত। কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর অনুমতিতে ক্ষতি দূর হতে পারে।
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করলে অন্তর প্রশস্ত
হয় : শাইখ মুহাম্মদ ইবনু সালিহ আল-উসাইমিন (রহ.) বলেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে দান করলে মানুষের অন্তর প্রশস্ত হয়, মন আনন্দিত হয় এবং হৃদয়ে প্রশান্তি আসে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।’
(সুরা ইউনুস, আয়াত : ৬২, তাফসির : সুরা আল-বাকারাহ, ইবনু উসাইমিন : ৩/৩৭৩)
তিনি আরো বলেন, মানুষ যখন আন্তরিকভাবে নিজের সম্পদ ব্যয় করে, বিশেষত আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, তখন সে নিজের অন্তরে প্রশান্তি অনুভব করে। (আশ-শারহুল মুমতি : ৬/৮; শারহ রিয়াদিস সালিহিন : ৫/২৩৭)
ঈমান ও তাওহিদ মানসিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করে : শাইখ ইবনু উসাইমিন (রহ.) বলেন, মানুষ যত বেশি আল্লাহর প্রতি ঈমানদার এবং তাঁর তাওহিদে দৃঢ় হবে, তত বেশি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা লাভ করবে। এটি একটি পরীক্ষিত বিষয়। (তাফসির আল-উসাইমিন, সুরা আলে ইমরান : ২/৩০১)
ধৈর্য অশেষ কল্যাণের পথ খুলে দেয় : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদের তাদের প্রতিদান অপরিমিতভাবে দেওয়া হবে।’
(সুরা আয-যুমার, আয়াত : ১০)
তিনি ব্যাখ্যা করেন, ধৈর্যের সঙ্গে আল্লাহর কাছে প্রতিদানের আশা যুক্ত হলে তা উত্তম পরিণতি ও সওয়াবের কারণ হয়। (তাফসির আল-উসাইমিন, সুরা আলে ইমরান : ২/৬০১-৬০২)
ঈমান যত শক্তিশালী হয়, আনুগত্য তত সহজ হয় : ইবনু উসাইমিন (রহ.) বলেন, ঈমান মানুষকে আল্লাহর আদেশ পালন ও নিষেধ থেকে বিরত থাকতে উদ্বুদ্ধ করে। ঈমান যত শক্তিশালী হয়, আনুগত্যের প্রতি আগ্রহও তত বাড়ে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, মানুষ নিজের মধ্যেই এই পার্থক্য অনুভব করতে পারে : কখনো তার অন্তরে ঈমানের শক্তি অনুভূত হয় এবং ইবাদত করতে ভালো লাগে; আবার কখনো অলসতা আসে এবং ইবাদত কঠিন মনে হয়। (তাফসির আল-উসাইমিন, সুরা আল-মায়িদা : ১/৩৩৩)
উপেক্ষা বিবাদ কমাতে সাহায্য করে : ইবনু উসাইমিন (রহ.) বলেন, মানুষ অন্যের প্রতিটি কথাকে তার বিরুদ্ধে বিচার করার মাপকাঠি বানিয়ে ফেলবে না; বরং অনেক ক্ষেত্রে ক্ষমা, উপেক্ষা ও নীরবতা অবলম্বন করা উচিত। তিনি ব্যাখ্যা করেন, কেউ গালির জবাবে গালি দিলে বিবাদ দীর্ঘ হতে পারে, শত্রুতা ও বিদ্বেষ বাড়তে পারে; কিন্তু সে যদি নিজেকে সংযত করে নীরব থাকে, তাহলে অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে। (শারহ রিয়াদিস সালিহিন : ৪/২৯৭)
উপহার ভালোবাসা বৃদ্ধির মাধ্যম : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা পরস্পরকে উপহার দাও, তাহলে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে।’
(আল-আদাবুল মুফরাদ)
ইবনু উসাইমিন (রহ.) এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটি একটি পরীক্ষিত বিষয়।’
(শারহুল আকিদাতিস সাফারিনিয়্যাহ : ১/৬০২)
পরিশেষে আল্লাহর আনুগত্য, সুন্নাহর অনুসরণ এবং উত্তম চরিত্র মানুষের জীবনে কল্যাণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হেদায়েত অনুসরণ করে, সে দুনিয়ায় বহু কল্যাণের প্রভাব অনুভব করতে পারে এবং আখিরাতের প্রতিদানের আশা রাখতে পারে।
Leave a Reply