মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে গত সপ্তাহে শক্তিশালী ভূমিকম্পে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সেই ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই এবার ভূমিকম্পে কাঁপল নেপাল ও ভারত।
স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে নেপালে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। দেশটির জাতীয় ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র বলছে, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.২।
এছাড়া ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ৮টা ৭ মিনিটে ওই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ভূমিকম্পে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, নেপালের এ ভূমিকম্পে দিল্লিসহ উত্তর ভারতের বিভিন্ন স্থানও কেঁপে উঠেছে।
এদিকে, মিয়ানমারে ফের একাধিক ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। গতকাল শুক্রবার রাতে এসব কম্পনের মাত্রা ছিল ১.৯ থেকে ৫.৬-এর মধ্যে।
থাইল্যান্ডের আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ বিভাগ জানিয়েছে, রাত ১০টা ২৫ মিনিটে সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পটি সংঘটিত হয়, যার মাত্রা ছিল ৫.৬ এবং এটি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল।
এটির উপকেন্দ্র ছিল থাইল্যান্ডের মায়ে হং সন প্রদেশের মুয়াং জেলার উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ২৭৬ কিলোমিটার দূরে।
থাইল্যান্ডের সবচেয়ে কাছে অবস্থিত ভূমিকম্পটি ঘটেছিল সন্ধ্যা ৭টা ৪৩ মিনিটে, যা মায়ে হং সনের পাং মাফা জেলার প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে। এর মাত্রা ছিল ২.৬ এবং গভীরতা ছিল মাত্র ১ কিলোমিটার।
ভূমিকম্পের কম্পন মায়ে হং সন ও আশেপাশের অঞ্চলের বাসিন্দারা অনুভব করেছেন বলে জানিয়েছে থাই ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ বিভাগ। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা বড় ধরনের প্রভাবের খবর পাওয়া যায়নি।
থাই আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকার জনগণকে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর হালনাগাদ তথ্য অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।
অপরদিকে, ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত পাপুয়া নিউ গিনির একটি দ্বীপ।
আমেরিকার জিওলজিক্যাল সার্ভের রিপোর্ট অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.৯। এর কয়েক মিনিটের মধ্যে জোরালো ‘আফটারশক’ (ভূমিকম্পের পরবর্তী কম্পন) হয়, যার মাত্রা ছিল ৫.৩। জোড়া কম্পনের ফলে ওই এলাকায় সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় অনুযায়ী, আজ শনিবার ভোর ৬টা ৪ মিনিটে প্রথমবার কাঁপে পাপুয়া নিউ গিনির নিউ ব্রিটেন দ্বীপ। ওই দ্বীপের উপকূলের অন্তত ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল ভূমিকম্পের উৎস। এর ফলে সমুদ্রে ঢেউয়ের উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা বেড়ে যায়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ মিয়ানমারে শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল মায়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ের কাছে।
Leave a Reply