1. tasermahmud@gmail.com : admi2017 : US Bangladesh
  2. akazadjm@gmail.com : Taser Khan : Taser Khan
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ভক্ত থেকে বিশ্বজয়ী সতীর্থ: মেসির বিদায়ে আলভারেজের আবেগঘন চিঠি ‘লিফট চালু থাকলেও ছয় তলায় সিঁড়ি দিয়ে উঠানো হয়েছে’ ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ট্রাম্পের সোনালি মূর্তি ‘অরেঞ্জ প্লেগ’ সড়কে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে নতুন কমিটি ভূমিকা রাখবে: রিজভী মানি চেঞ্জারে ডলার বিক্রির সীমা বেড়ে ৩ হাজার ডলার প্রত্যেক উপজেলায় সরকারের জরুরি নির্দেশনা আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জাল কাগজপত্রে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যাদেশ রাতে সুপ্রিম কোর্টে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ দিল্লিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, রাহুল-প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে নতুন মামলা

কী কারণে র‍্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, বোধগম্য নয়: প্রধানমন্ত্রী

‍ইউএস বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২ মে, ২০২৩

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কী কারণে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তা বোধগম্য নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন তিনি। ছয় দিনের সফরে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী।

র‍্যাবের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সরকার কী কী সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জঙ্গিবাদ নির্মূলসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে আমেরিকার পরামর্শেই কিন্তু এই র‍্যাবের সৃষ্টি হয়েছে। র‍্যাবের প্রশিক্ষণ থেকে সবকিছুই আমেরিকার করা। যখন একটি গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসল, আমরা সবকিছু ঠিকমতোই চালাচ্ছি। তখন আমেরিকা কী কারণে র‍্যাবের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল, তা আমার কাছে বোধগম্য নয়।’

র‌্যাবের কেউ অপরাধ করলে তাকে শাস্তির আওতায় আনা হয় দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘র‍্যাবের কোনো সদস্য অপরাধ করলে তার বিচার হয়। র‍্যাবের কেউ অপরাধে জড়িয়ে পড়লে সঙ্গেসঙ্গে আমরা তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসি। যেটা অন্য কোনো দেশে নেই, এমনকি আমেরিকাতেও নেই। এই আইনের শাসনটা আমাদের দেশে আছে।’

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের একজন প্রতিমন্ত্রীর মেয়ের জামাই র‍্যাবের সদস্য থাকা অবস্থায় একটি অপরাধে জড়িয়ে পড়েছিল। তাকেও সঙ্গেসঙ্গেই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সে শাস্তিও পেয়েছে। বিষয়টিকে আমরা এভাবেই দেখছি। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে র‍্যাবের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু, হঠাৎ করে র‍্যাবের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে জঙ্গিরা আবার উৎসাহিত হয়ে গেল বলে মনে হয়। এটাই হলো বাস্তবতা।’

দেশে আইনের শাসন বলবৎ আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দেশে আইনের শাসন বলবৎ রয়েছে। আমরা সবকিছু আইনের দৃষ্টিতে দেখি। আবার বিনা অপরাধে কেউ যাতে শাস্তি না পায়, এটাও আমরা দেখি।’

নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে বিএনপি আন্দোলন করছে। বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনার চিন্তা-ভাবনা কী আপনাদের আছে?- ভয়েস অব আমেরিকার করা এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কিন্তু বারবার আলোচনা করেছি, ২০২৮ সালের নির্বাচনেও…। কিন্তু আসলে বিএনপি এমন একটি রাজনৈতিক দল যেটি সৃষ্টি করেছে একজন সামরিক শাসক। যে ১৯৭৫ সালে আমার বাবা, মা, ভাই, বোনকে হত্যা করেছে। একজন প্রেসিডেন্টকে হত্যা করে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একজন সেনাপ্রধান নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দিয়ে চেয়ারে বসল। বসে হ্যাঁ-না ভোটের নামে নাটক, সেখানে না নয়, সব হ্যাঁ ভোটই হয়ে গেল। পরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ১৯৭৭ সালে করল। এরপরে গিয়ে রাজনৈতিক দল সৃষ্টি করল, ক্ষমতায় বসে থেকে। এ কথাটা সবাইকে মনে রাখতে হবে, অস্ত্র হাতে নিয়ে ক্ষমতা দখল করে, ক্ষমতায় বসে থেকে যে রাজনৈতিক দল সৃষ্টি করা হয়েছে সেটাই হচ্ছে বিএনপি।’

তিনি বলেন, ‘আলোচনার কথা যদি বলেন…। দেখুন, আমার মা-বাবা-ভাইদের যারা হত্যা করেছে সেই হত্যাকারীদের বিচার আমি কোনো দিন চাইতে পারিনি। ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে এসে মামলা করতে পারিনি। ক্ষমতায় এসে যখন মামলা করলাম, যেদিন রায় দেবেন সেদিন হরতাল ডেকেছে বিএনপি। যাতে জজ সাহেব কোর্টে গিয়ে রায় দিতে না পারেন।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ক্ষমতায় ছিল আবার আমার বাবা-মা ও ভাইদের হত্যাকারী, যুদ্ধাপরাধী। তারপরও দেশের স্বার্থে, দেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে আমি কিন্তু তাদের সঙ্গে আলোচনাও করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তারা… বলতে গেলে। সিট বিক্রি করা…।  একেকটা সিটের পেছনে দুজন-তিনজনকে নমিনেশন। একজনকে লন্ডন থেকে পাঠায়, আর ঢাকা থেকে কেউ দেয়। এভাবে একেক সিটে দুই-তিন করে ক্যান্ডিডেট। তারা দেখল ইলেকশন করার আর অবস্থা নেই, তখন তারা এক সময় ইলেকশন থেকে ইউথড্র করে চলে যায়। ইলেকশনটাকে তারা কন্ট্রোভার্সিয়াল করার চেষ্টা করে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কেয়ারটেকার সরকারের ব্যবস্থা বিএনপিই নষ্ট করে দিয়ে গেছে। খালেদা জিয়া নিজেই বলেন, পাগল আর শিশু ছাড়া নিরপেক্ষ কেই নেই। সেখানে তারা কীভাবে এই দাবি করেন? সেটাই হলো বড় প্রশ্ন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দ্বিতীয় একটা প্রশ্ন হলো…। তাদের সঙ্গে ডায়লগ, আমি ডায়লগ কীভাবে করব? ঠিক আছে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পরও কিন্তু তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমি জানি, সে বিচারও কিন্তু তারা করেনি। খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে মারা গেছে, লাশ এসেছে। আমি কিন্তু প্রাইম মিনিস্টার। তবুও গেলাম সন্তানহারা মাকে সহানুভূতি জানাতে। আমি যখন রওনা হয়েছি তখন জানানো হলো ওই বাড়িতে (খালেদা জিয়ার বাড়ি) ঢুকতে দেবে না। মেইন গেট বন্ধ।’

তিনি বলেন, ‘আমি তখন বললাম, এসেই যখন পড়েছি মেইন গেট না হয় না খুলল যেটা পকেট গেট আছে সেখান দিয়েই যাব। আমাকে এসএসএফ নিতে আসছে। যেই গাড়ি থেকে নামব, পেছন থেকে দরজাটা বন্ধ করে দিল। আমাকে ঢুকতে দিল না। আমাকে না ঢুকতে দিয়ে চরম অপমান করা হলো। আপনারা বলেন, এরপর কার সঙ্গে ডায়লগ করব আমি?’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘একে তো সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তারপর আবার বাবা-মা, ভাই-বোনদের খুনি, যুদ্ধাপরাধী। তারপরও দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে, দেশের জনগণকে রক্ষার জন্য কিন্তু অনেক উদারতা দেখিয়েছি। তবে এখন আর তাদের সঙ্গে কথা বলার কিছু নেই। কারণ তাদের যে অপরাধ। আমার ২১ হাজার নেতাকর্মীকে তারা হত্যা করেছে।’

তিনি বলেন, ‘মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করার পর। সেসব মানুষ মারা গেছে, তাদের পরিবারগুলো যে কষ্ট পাচ্ছে। যারা পুড়েও বেঁচে আছে, তাদের সবার চিকিৎসার ব্যবস্থা আমরা করেছি। যে অবস্থায় তারা আছে তা কেউ দেখলে…। পোড়া মানুষগুলোর কষ্ট দেখলে আর ওদের (বিএনপির) সঙ্গে বসতে ইচ্ছে হয় না। মনে হয়, ওদের সঙ্গে বসলে আমি পোড়া মানুষগুলোর গন্ধ পাই।’

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019-2023 usbangladesh24.com