যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিপর্যয়ের পর নিজের কঠোর অভিবাসন নীতির অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী স্টিফেন মিলারকে নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মিলার দায়িত্ব নিচ্ছেন সুসি ওয়াইলসের স্থলাভিষিক্ত হয়ে।
কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর পদত্যাগপত্র জমা দেন ওয়াইলস। এর ফলে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরের কর্মসূচি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ওয়াইলস ‘খুব ভালো কাজ করেছেন’। তবে কখনো কখনো ‘আমাদের কিছু পরিবর্তন আনতে হয়’।
ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও উপপ্রধান চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ৪১ বছর বয়সী মিলার আগামী সোমবার নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও তিনি জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন।
ট্রাম্পের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন মিলার ২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পরও প্রেসিডেন্টের পাশে ছিলেন। গত বছর ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় ফিরলে তার সঙ্গেই হোয়াইট হাউসে ফিরে আসেন তিনি।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে পরিবর্তনকারী রাজনৈতিক নেতা’ হিসেবে অভিহিত করেন মিলার। তিনি আরও বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, তাদের হাত থেকে একাই দেশটিকে রক্ষা করেছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং প্রেসিডেন্টের বিশেষ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সুসি ওয়াইলসের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান মিলার। দীর্ঘদিনের নিষ্ঠাপূর্ণ দায়িত্ব পালন ও বন্ধুত্বের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
মিলার লেখেন, ‘এখন আমাদের লক্ষ্য আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি স্পষ্ট। আমাদের পুরো শক্তি ও মনপ্রাণ দিয়ে প্রেসিডেন্টকে সমর্থন করতে হবে এবং এই মহান প্রজাতন্ত্রকে রক্ষা করতে হবে।’
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কয়েক দিন পর ওয়াইলসের পদত্যাগের ঘটনা ঘটল। এর ফলে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির বাকি সময়জুড়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ডেমোক্র্যাটদের হাতে।
বৃহস্পতিবার রাতে ট্রাম্পের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ওয়াইলস। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির এক কর্মকর্তা। সংবাদমাধ্যমটির তিনটি সূত্র জানিয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের সঙ্গে ওয়াইলসের পদত্যাগের সম্পর্ক রয়েছে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াইলসকে তার ‘ট্রাম্প রাজনৈতিক কার্যক্রম’ বিভাগে দায়িত্ব দেওয়া হবে। তবে হোয়াইট হাউসে তার অধীনে কাজ করা উপসহযোগীরা নিজ নিজ পদে বহাল থাকবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়াইলস লিখেছেন, ট্রাম্পের দলে কাজ করতে পারা ছিল ‘জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান’।
তিনি বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে যা অর্জন করেছি, তার অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত। আমার দায়িত্বের ধরন পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু প্রেসিডেন্ট ও তার লক্ষ্যপূরণের প্রতি আমার অঙ্গীকার কখনো বদলাবে না।’
Leave a Reply