1. tasermahmud@gmail.com : admi2017 : US Bangladesh
  2. akazadjm@gmail.com : Taser Khan : Taser Khan
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৬ অপরাহ্ন

সংঘাতের মধ্যে ইয়েমেনে বেড়েছে কলেরার প্রকোপ, সতর্কবার্তা ডব্লিউএইচওর

‍ইউএস বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

ইয়েমেনে গত তিন সপ্তাহে কলেরায় আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা তিনগুণ বেড়েছে। দেশটিতে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় বাড়িঘর ছেড়ে পালানো মানুষ অস্বাস্থ্যকর আশ্রয়শিবিরে অবস্থান করছেন। এতে তাদের মধ্যে কলেরাসহ প্রতিরোধযোগ্য রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ডব্লিউএইচও এই সতর্ক বার্তা দিয়েছে।

বার্তায় বলা হয়েছে, সংঘাতের কারণে দুই লাখের বেশি মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছেন। গত ৬ থেকে ১২ সেপ্টেম্বরের সপ্তাহে ইয়েমেনে কলেরায় আক্রান্ত হওয়ার সন্দেহভাজন ঘটনা ছিল ২১৭টি। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবরের সপ্তাহে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৪৭টিতে।

জাতিসংঘের সংস্থাটির আঞ্চলিক জরুরি কার্যক্রমের পরিচালক অ্যানেট হেইনজেলম্যান বলেন, ‘সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা পরিবারগুলো এখন প্রতিরোধ ও চিকিৎসাযোগ্য রোগের আরেকটি হুমকির মুখে পড়েছে।’

তিনি বলেন, জরুরি অর্থায়ন, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, টিকাদান ও অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বাধাহীন প্রবেশাধিকার না থাকলে আগে থেকেই ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর মধ্যে রোগের প্রাদুর্ভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ডব্লিউএইচওর তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর ইয়েমেনে কলেরায় আক্রান্ত হওয়ার সন্দেহভাজন আট হাজার ৩৪টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এ সময়ে এ রোগে ২৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত চার সপ্তাহে ঘটেছে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের এক-চতুর্থাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচটি গভর্নরেট-আবিয়ান, লাহিজ, আল-দালেয়া, তাইজ ও এডেনে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের ৯২ শতাংশ ঘটেছে। এসব এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের বড় অংশ আশ্রয় নিয়েছেন। এ ছাড়া পূর্বাঞ্চলের হাদরামাউতের দুর্গম আশ্রয়শিবিরগুলোতেও কলেরার সংক্রমণ ছড়িয়েছে। এসব এলাকায় চিকিৎসাকর্মীদের পৌঁছানো কঠিন।

ইয়েমেনে কয়েক বছর ধরেই কলেরার প্রাদুর্ভাব বাড়া-কমার ঘটনা ঘটছে। ২০২৪ সালে ডব্লিউএইচও সতর্ক করে বলেছিল, বিশ্বব্যাপী কলেরার প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে ইয়েমেন অন্যতম।

২০১৭ সালে দেশটিতে কলেরার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে কয়েক লাখ মানুষ আক্রান্ত হন এবং অন্তত দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

ইয়েমেন আগে থেকেই বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে রয়েছে। গত জুলাইয়ে হুতি বিদ্রোহী ও সরকারের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর দেশটিতে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা ও রোগব্যাধির প্রকোপ বেড়েছে। এর ফলে চার বছর ধরে চলা ভঙ্গুর শান্ত পরিস্থিতি ভেঙে পড়ে।

কলেরা একটি তীব্র অন্ত্রের সংক্রমণজনিত রোগ। ভিব্রিও কলেরি ব্যাকটেরিয়ায় দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। এতে তীব্র ডায়রিয়া, বমি ও পেশিতে খিঁচুনি হতে পারে। দ্রুত পানিশূন্যতা পূরণ করা না হলে রোগটি প্রাণঘাতী হতে পারে। চিকিৎসায় খাবার স্যালাইন গুরুত্বপূর্ণ; গুরুতর ক্ষেত্রে শিরায় তরল দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ইয়েমেনে ৯০ দিনের জরুরি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৩ কোটি ১০ লাখ ডলার প্রয়োজন। কিন্তু সংস্থাটি এখন পর্যন্ত পেয়েছে ৩৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

এই অর্থ দিয়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়শিবিরে রোগ পর্যবেক্ষণ জোরদার, দ্রুত সাড়াদানকারী দল মোতায়েন, কলেরার চিকিৎসা সম্প্রসারণ এবং হাসপাতাল ও কলেরা চিকিৎসাকেন্দ্রে সংক্রমণ প্রতিরোধব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019-2023 usbangladesh24.com