রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দুর্নীতি মামলায় প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান ইকবালউদ্দিন চৌধুরী এবং পারটেক্স গ্রুপের দুই পরিচালকসহ মোট আটজনকে ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকার নবম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আব্দুস সালাম এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় জামিনে থাকা আসামিরা আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাদের জামিন বাতিল করে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন—রাজউকের সাবেক সদস্য (উন্নয়ন) এস ডি ফয়েজ, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) এ কে এম ওয়াহেদুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (অর্থ) এস এম জাফর উল্লাহ, সাবেক সদস্য (প্রশাসন ও ভূমি) এইচ এম জহুরুল হক, সাবেক সদস্য (এস্টেট) রেজাউল করিম তরফদার এবং পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত এম এ হাশেমের দুই ছেলে—আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এবং সিটি ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ও পারটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশফাক আজিজ রুবেল।
দুদকের কৌঁসুলি খন্দকার শামীম হোসেন জানান, দণ্ডবিধির দুটি পৃথক ধারায় (অপরাধমূলক অসদাচরণ ও বিশ্বাস ভঙ্গ) আসামিদের ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে উভয় ধারার সাজা একসঙ্গে চলায় আসামিদের মূল সাজা হবে ৭ বছর।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে রাজউকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে বৈধ আবেদনকারীদের বঞ্চিত করেন। তাঁরা নিয়ম বহির্ভূতভাবে আশফাক আজিজ রুবেল ও শওকত আজিজ রাসেলকে ১০ কাঠার দুটি প্লট বরাদ্দ দেন। এ ঘটনায় ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করেন দুদকের তৎকালীন উপপরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস।
পরবর্তীতে ২০১৮ সালে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং ২০১৯ সালে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়। মামলায় মোট ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন।
এ জাতীয় আরো খবর..
Leave a Reply