চলতি বছরের মোট ২৪ হাজার ৮৪৮ রোগীর মধ্যে সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকার রোগী ১৭ হাজার ৯৬৭ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক জরিপে চট্টগ্রাম নগরের ১৮টি ওয়ার্ডের ৩৭০টি বাড়ি পরিদর্শন করে ৯৯টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। পরীক্ষা করা ৩৪৫টি পানির পাত্রের মধ্যে ১১৪টিতেই লার্ভা মিলেছে। ৮টি ওয়ার্ডকে উচ্চ ঝুঁকির এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, বর্ষাকালে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর ঝুঁকি সাধারণত বেশি থাকে। আগস্টে সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে, তাতে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চলতি বছরের ৭১ মৃত্যুর মধ্যে ২৮ জন পুরুষ ও ৪৩ জন নারী। সবচেয়ে বেশি ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে। ৩৬ থেকে ৪০ বছর বয়সী আটজন এবং ৩১ থেকে ৩৫ বছর বয়সী সাতজন মারা গেছেন। এ ছাড়া ১৫ বছর বা এর কম বয়সী অন্তত নয়জন ডেঙ্গুতে মারা গেছে। শুধু জুলাইয়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৩৬ জনের এবং জুনে ১৩ জনের। অর্থাৎ চলতি বছরের মৃত্যুর বড় অংশই ঘটেছে গত দুই মাসে।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী বলেন, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও ডিসেম্বর মাসে দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরী বলেন, ‘জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীরব্যথা, বমি, পেটে ব্যথা, দুর্বলতা বা রক্তপাতের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ এখনো তুলনামূলক কম। তবে জেলায় জেলায় চিকিৎসার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।’
Leave a Reply