শৈশব পেরিয়ে কৈশোরে পা রাখতেই অনেক মেয়ের জীবনে শুরু হয় মাসিক। কারো ১০-১১ বছর বয়সেই প্রথম ঋতুস্রাব হয়, কারো ক্ষেত্রে আরো পরে।
শৈশব পেরিয়ে কৈশোরে পা রাখতেই অনেক মেয়ের জীবনে শুরু হয় মাসিক। কারো ১০-১১ বছর বয়সেই প্রথম ঋতুস্রাব হয়, কারো ক্ষেত্রে আরো পরে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে নারীদের স্বাভাবিক মেনোপজ হয়। টানা ১২ মাস মাসিক না হলে এবং এর পেছনে অন্য কোনো কারণ না থাকলে মেনোপজ হয়েছে বলে বিবেচনা করা হয়। এটি কোনো রোগ নয়; বরং নারীর জীবনের একটি স্বাভাবিক জৈবিক পর্যায়।
মেনোপজের সময় হঠাৎ শরীর গরম হয়ে যাওয়া, রাতে ঘাম, ঘুমের সমস্যা, পেশি ও গাঁটে ব্যথা, ক্লান্তি এবং যোনিপথে শুষ্কতার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কারো ক্ষেত্রে উদ্বেগ, মন-মেজাজের পরিবর্তন কিংবা বিষণ্নতার লক্ষণও দেখা যায়। তবে সবার অভিজ্ঞতা এক নয়; উপসর্গের ধরন ও তীব্রতা ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে।
এ বছরের প্রতিপাদ্যে মধ্যবয়সে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। মেনোপজের সময় বা পরে পেশি ও গাঁটে ব্যথাসহ বিভিন্ন ধরনের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা কিছু নারীর দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলতে পারে। এসব সমস্যাকে শুধু বয়সের স্বাভাবিক পরিবর্তন ভেবে অবহেলা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
মাসিক কিংবা মেনোপজ—দুটিই নারীর জীবনের স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা। অথচ এ নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা না থাকায় অনেকেই নিজের অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন না। পরিবারের সদস্যদের সহমর্মিতা, কর্মক্ষেত্রে সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সঠিক তথ্য নারীদের এ সময়ের পরিবর্তনগুলো সামলাতে সহায়তা করতে পারে।
মেনোপজের উপসর্গ দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত। ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা ও পরামর্শের মাধ্যমে অনেক সমস্যাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
বিশ্ব মেনোপজ দিবস তাই শুধু একটি স্বাস্থ্যসচেতনতা দিবস নয়; এটি নারীর জীবনের এমন একটি পর্যায় নিয়ে কথা বলার সুযোগ, যা অনেক সময় নীরবে পার করতে হয়। মাসিকের শুরু থেকে মেনোপজ পর্যন্ত শরীরের পরিবর্তন সম্পর্কে জানা, নিজের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রয়োজনে সহায়তা চাওয়ার পরিবেশ তৈরি করাই এ সচেতনতার মূল উদ্দেশ্য।
Leave a Reply