আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচের পর তাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এছাড়া ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদিনহো ও নেইমারসহ ফুটবল বিশ্বের অসংখ্য তারকারা বার্তা দিয়েছেন।
৩৯ বছর বয়সী মেসি মঙ্গলবার বুয়েনস এইরেসে বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয়ে নিজের ২০৮তম ও শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন। ম্যাচে গোল করে জাতীয় দলের হয়ে নিজের গোলসংখ্যা নিয়ে যান ১২৬-এ।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসিকে উদ্দেশ করে বার্তা দেন রোনালদো। দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বীর আবেগঘন বিদায়ী বার্তার জবাবে তিনি লেখেন, ‘লিও, এত বছর নিজের দেশের হয়ে লড়াই করে তুমি এমন এক ইতিহাস তৈরি করেছ, যা চিরকাল টিকে থাকবে। আর্জেন্টিনার হয়ে তুমি যা অর্জন করেছ, তার প্রতি আমার সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা।’
২০০২ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদিনহোও মেসির প্রতি আবেগঘন শ্রদ্ধা জানান। ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনায় মেসির সতীর্থ ছিলেন তিনি।
রোনালদিনহো লেখেন, ‘প্রথম দিন থেকেই তোমার এই যাত্রার অংশ হতে পারা আমার জন্য কতটা আনন্দের ছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন, ভাই! তুমি আমাদের কত হাসিয়েছ, কত আনন্দ দিয়েছ, ফুটবলকে কত উপভোগ করিয়েছ!’
‘তোমার নাম তোমার দেশের ইতিহাসে এবং পুরো বিশ্বের ইতিহাসে চিরস্থায়ী হয়ে গেছে। শুধু আমরাই জানি, শৈশবের স্বপ্ন পূরণ করে নিজেদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করা এবং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দটা কেমন ছিল।’
‘জাতীয় দল ও দেশের জন্য তুমি সবকিছু উজাড় করে দিয়েছ। আমি তোমাকে পুরোপুরি বুঝতে পারি। পরিবারের বিষয়গুলো মানুষকে অনেক কিছু নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। জীবন উপভোগ করো, ভাই। আজ এবং সবসময় তোমার জন্য আমার শুভকামনা।’
ছয়টি বিশ্বকাপে খেলা মেসি ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জেতেন। ২০২৬ সালেও আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের ফাইনালে নেতৃত্ব দেন তিনি। গত ৩১ আগস্ট আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। এর কয়েক সপ্তাহ আগে মারা যান তার বাবা ও দীর্ঘদিনের প্রতিনিধি হোর্হে মেসি।
বার্সেলোনা ও পিএসজিতে মেসির সঙ্গে খেলা নেইমারও বিদায়ী সতীর্থের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এই তারকা লিখেছেন, ‘তুমি আমাকে ফুটবলকে আরও বেশি ভালোবাসতে শিখিয়েছ।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা ফুটবল ভালোবাসেন, তারা এত বছর ধরে তোমাকে খেলতে দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। আজ তোমার জাতীয় দলের জার্সিতে, তোমার দেশের হয়ে শেষ ম্যাচ। আমি আশা করি, প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করবে এবং আজকের সব শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা তোমাকে আনন্দ দেবে।’
‘শুধু আর্জেন্টিনা নয়, পুরো বিশ্ব তোমাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে ফুটবলের জন্য তুমি যা করেছ, তার জন্য। আমাকে ফুটবলকে আরও বেশি ভালোবাসতে শেখানোর জন্য ধন্যবাদ। তোমার বিপক্ষে খেলতে পারা ছিল সম্মানের, আর তোমার পাশে থেকে ইতিহাসের অংশ হতে পারা ছিল আরও বড় সম্মান। ধন্যবাদ।’
মেসির বন্ধু ও ইন্টার মায়ামির সতীর্থ লুইস সুয়ারেজও তার জন্য বিশেষ রাতের শুভকামনা জানিয়েছিলেন।
এক ভিডিও বার্তায় উরুগুয়ের এই ফরোয়ার্ড বলেন, ‘আশা করি, তুমি জাতীয় দলের সেই জার্সিটি পরার প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করবে। এই জার্সিটি তোমার ক্যারিয়ারে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তা আমরা সবাই জানি। এই জার্সিতে তুমি অসাধারণ সব মুহূর্ত কাটিয়েছ এবং এমন সব অর্জন করেছ, যা দেশের হয়ে খেলা প্রতিটি ফুটবলারের স্বপ্ন।’
‘তোমার ক্যারিয়ার এবং দেশের জন্য তুমি যা প্রতিনিধিত্ব করেছ, তার জন্য সবার কাছ থেকে পাওয়া এই প্রাপ্য সম্মান তুমি অর্জন করেছ। তাই তোমার নিজের জন্য গর্বিত হওয়া উচিত।’
মেসির বিদায়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে আর্জেন্টিনার অসংখ্য ক্লাবও। জাতীয় দলের হয়ে ২১ বছরের ক্যারিয়ারে দুটি কোপা আমেরিকা শিরোপাও জিতেছেন তিনি।
বোকা জুনিয়র্সের বার্তায় লেখা হয়েছে, ‘সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ, অধিনায়ক।’
ইন্দেপেন্দিয়েন্তে লিখেছে, ‘একটি সুন্দর ভালোবাসার গল্প। সত্যিই ধন্যবাদ।’
সান লোরেঞ্জো জানিয়েছে, ‘ফুটবলের জন্য ধন্যবাদ। জার্সির প্রতি ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ। আনন্দ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। বারবার চেষ্টা করে যাওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আর আর্জেন্টাইন হওয়ার জন্য ধন্যবাদ।’
মেসির সাবেক ক্লাব বার্সেলোনাও মঙ্গলবারের ম্যাচের পর তাকে অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছে, ‘২০০৮ সালের বেইজিংয়ের সোনার পদক থেকে শুরু করে এক অবিস্মরণীয় ক্যারিয়ার—আর্জেন্টিনার জার্সিতে প্রতিটি পদক্ষেপে ইতিহাস সৃষ্টি করেছ তুমি। অভিনন্দন, লিও। আর্জেন্টিনার জার্সিকে আরও বেশি গৌরবান্বিত করে যাওয়ার জন্য।’
Leave a Reply