1. tasermahmud@gmail.com : admi2017 : US Bangladesh
  2. akazadjm@gmail.com : Taser Khan : Taser Khan
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২১ পূর্বাহ্ন

বিবিসিকে শেখ হাসিনা: আমি মানবতাবিরোধী অপরাধ করিনি

‍ইউএস বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২৫

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন, সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। সম্প্রতি ই-মেইলে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ দাবি করেন বলে গতকাল শুক্রবার সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে।

চব্বিশের আন্দোলন দমনে হত্যার উসকানি, প্ররোচনা ও নির্দেশ দান, ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসেবলিটি’ এবং ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজের’ মোট ৫ অভিযোগে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। আগামী সোমবার এ মামলার রায়ের দিন ঠিক করা হয়েছে। তার আগেই বিবিসিকে এ সাক্ষাৎকার দিলেন তিনি। যদিও শেখ হাসিনা আগে থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, এই বিচার শুরু থেকেই ‘পূর্বনির্ধারিত রায়ের দিকে’ এগোচ্ছিল।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তার অনুপস্থিতিতে যে বিচার চলছে, তা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নিয়ন্ত্রিত ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টের’ সাজানো এক ‘প্রহসন’। এদিকে বিবিসি লিখেছে, এ রায় বাংলাদেশের জন্য যেমন ‘তাৎপর্যপূর্ণ’, তেমনি হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা ছাত্রনেতৃত্বের আন্দোলনে নিহতদের স্বজনদের জন্য ‘গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’।

এর আগে গত বছর সেপ্টেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের আহ্বানে বাংলাদেশে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালায় জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনের তদন্ত দল। গত ফেব্রুয়ারিতে তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হত্যা ও নির্বিচার গুলির একাধিক বড় অভিযান শেখ হাসিনার ‘নির্দেশ ও তদারকিতে’ হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন ‘নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে পাওয়া’ মৃত্যুর তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত দলের প্রতিবেদনে ধারণা দেওয়া হয়, ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে, যাদের বেশির ভাগই বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবহৃত প্রাণঘাতী অস্ত্র, সামরিক রাইফেল এবং শটগানের গুলিতে নিহত হন।

তবে ভারতে পালিয়ে থাকা শেখ হাসিনা এসব অভিযোগ বরাবরই ‘সুস্পষ্টভাবে’ অস্বীকার করছেন। একই সঙ্গে দেশে ফিরে বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এই নেত্রী বলেন, তিনি অস্বীকার করছেন না যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল, কিংবা অপ্রয়োজনে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। কিন্তু নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গুলি চালানোর কোনো নির্দেশ তিনি কখনও দেননি বলে দাবি করছেন।

বিবিসি লিখেছে, এ বছরের শুরুতে টেলিফোন আলাপের ফাঁস হওয়া একটি অডিও যাচাই করে বিবিসি আই, যেখানে শেখ হাসিনা জুলাইয়ে ‘প্রাণঘাতী অস্ত্র’ ব্যবহারের অনুমোদন দেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। শেখ হাসিনার পাশাপাশি তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এবং সে সময়ের পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এ মামলার আসামি।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন হাসিনার মতো আসাদুজ্জামান খাঁন কামালেরও মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন। অন্যদিকে আবদুল্লাহ আল-মামুন দায় স্বীকার করে নিয়ে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।

সাক্ষাৎকারে হাসিনা বিবিসিকে বলেছেন, তিনি এ মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি বা নিজের আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেননি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে ‘চূড়ান্তভাবে নিশ্চিহ্ন’ করতে এই মামলা দিয়েছে।

হাসিনার আইনজীবীরা সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে ‘উদ্বেগ’ জানিয়ে তারা জাতিসংঘে জরুরি আবেদন করেছেন।

বিবিসি আরও লিখেছে, আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে গুম-নির্যাতনের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে অন্য যে মামলাটি চলছে, সেই বিষয়েও তারা হাসিনাকে প্রশ্ন করেছিল। জবাবে হাসিনা সেই অভিযোগও অস্বীকার করেন। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসিনা তার ব্যক্তিগত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কোনো কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ খাকলে তা যেন নিরপেক্ষ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রক্রিয়ায় যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019-2023 usbangladesh24.com