টানা দ্বিতীয়বার মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) গোল্ডেন বুট পুরস্কার জিতেছেন ইন্টার মায়ামির লিওনেল মেসি। শনিবার নিয়মিত মৌসুমের শেষ ম্যাচে শার্লটের সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মায়ামি। এই ড্রয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে দলটি।
আর্জেন্টাইন মহাতারকা এদিন গোল করতে পারেননি। তবে কর্নার থেকে প্রথম দুটি গোলে অবদান রেখেছেন তিনি। তার দলকে প্লে-অফের প্রথম দুই পর্বে নিজেদের মাঠে খেলার সুবিধা এনে দিয়েছে এই ফল।
এ মৌসুমে ২৬ গোল করেছেন মেসি। এর মধ্য দিয়ে এমএলএসে টানা দুই মৌসুমে গোল্ডেন বুট জেতা প্রথম খেলোয়াড় হয়েছেন তিনি। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা ডালাসের পেতার মুসার গোল ২২টি। কলোরাডোর বিপক্ষে নিজেদের মাঠে ডালাসের ৩-১ গোলের জয়ের ম্যাচে অবশ্য গোল পাননি তিনি।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই তিন গোল করে এগিয়ে যায় ইন্টার মায়ামি। দলটির হয়ে গোল করেন ইয়ান ফ্রে, লুইস সুয়ারেজ ও রদ্রিগো দি পল। তবে বিরতির পরপরই লিয়েল আবাদার জোড়া গোলে সমতায় ফেরার লড়াই শুরু করে শার্লট। শেষ পর্যন্ত রদলফো আলোকোর শেষ মুহূর্তের গোলে সমতা ফেরায় সফরকারীরা।
এদিকে সিনসিনাটিকে ২-০ গোলে হারিয়ে এমএলএসের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ পয়েন্টের রেকর্ড গড়েছে ন্যাশভিল। ২৩ জয়, ৮ ড্র ও ৩ হারে তাদের পয়েন্ট ৭৭। এর মধ্য দিয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে দলটি। ২০২৪ সালে মায়ামির গড়া ৭৪ পয়েন্টের রেকর্ড ভেঙেছে তারা।
৬০ পয়েন্ট নিয়ে পূর্বাঞ্চলে দ্বিতীয় স্থানে থেকে মৌসুম শেষ করেছে মেসির মায়ামি। তৃতীয় স্থানে থাকা নিউ ইংল্যান্ডের পয়েন্ট ৫৮। মায়ামির ড্রয়ের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি তারা। অরল্যান্ডোর কাছে অপ্রত্যাশিতভাবে ১-০ গোলে হেরে গেছে নিউ ইংল্যান্ড।
প্লে-অফের প্রথম পর্বে কলম্বাসের মুখোমুখি হবে মেসির মায়ামি। অন্য ম্যাচগুলোতে নিউ ইংল্যান্ড খেলবে ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে, শার্লটের প্রতিপক্ষ শিকাগো। আর শীর্ষ বাছাই ন্যাশভিল খেলবে অরল্যান্ডো ও সিনসিনাটির মধ্যকার বাছাইপর্বের জয়ী দলের বিপক্ষে।
সিনসিনাটির হারের সুযোগ কাজে লাগিয়ে শিকাগোর মাঠে ৪-৩ গোলে জিতেছে কলম্বাস। সপ্তম স্থানে থেকে মৌসুম শেষ করায় বাছাইপর্ব এড়িয়ে সরাসরি প্লে-অফে জায়গা করে নিয়েছে তারা।
মায়ামির মাঠে ম্যাচের ১৪ মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার শার্লটের লুকা দে লা তোরের কাছে যায়। তার কাছ থেকে বল পেয়ে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ফ্রে।
৩৩ মিনিটে মেসির আরেকটি কর্নার থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সুয়ারেজ। কাছের পোস্টে ফাঁকায় থাকা উরুগুয়ের এই ফরোয়ার্ড হেডে বল জালে পাঠান।
বিরতির আগে মায়ামির হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন দি পল। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান কমান আবাদা। ৫৫ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে শার্লটকে সমতায় ফেরার স্বপ্ন দেখান তিনি।
ম্যাচের ৯০ মিনিটে সমতাসূচক গোলটি করেন আলোকো। স্মলসের নেওয়া শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে দ্রুত বলের নাগাল পেয়ে জালে পাঠান তিনি।
যোগ করা সময়ে মেসির একটি শট পোস্টে লাগে। এ সময় দৃশ্যত হতাশ ছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা। অন্যদিকে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত এক শটে জয়সূচক গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন আলোকো। তবে তার শটটি গোলপোস্টের বাইরের জালে আঘাত করে। ফলে ৩-৩ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল।
Leave a Reply