চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন ফের নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তাওহীদা আক্তার শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দেন।
আদালতে ডনের পক্ষে মফিজুল ইসলাম আশরাফ জামিন চেয়ে শুনানি করেন। এর আগে ঢাকার সিএমএম আদালত ও ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতেও ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়।
গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মামলাটি দায়ের করেন।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) ঢাকার ইস্কাটনের একটি ফ্ল্যাটে মারা যান। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে সে সময় তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। ছেলের মৃত্যুর পর প্রথমে একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি। তখন অপমৃত্যুর মামলার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।
১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে সিআইডি জানায়, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন। সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন চৌধুরী রিভিশন মামলা করেন। পরে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠান আদালত। দীর্ঘ ১১ বছর পর, ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট দেওয়া প্রতিবেদনে হত্যার অভিযোগ নাকচ করা হয়। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দিয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে ছেলেকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনেন।
পরে মামলাটি তদন্ত করে র্যাব। রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তি তুললে ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট আদালত র্যাবকে মামলাটি আর তদন্ত না করার আদেশ দেন। এরপর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তের দায়িত্ব পায়। চার বছর তদন্তের পর ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিবিআই হত্যার অভিযোগ নাকচ করে প্রতিবেদন দেয়।
ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী আরও তদন্তের আবেদন করেন। কিন্তু ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর আদালত পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আসামিদের অব্যাহতি দেন। এর বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদন করা হলে গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক রিভিশন মঞ্জুর করে থানাকে হত্যা মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী হত্যা মামলা করা হয়।
Leave a Reply