1. tasermahmud@gmail.com : admi2017 : US Bangladesh
  2. akazadjm@gmail.com : Taser Khan : Taser Khan
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ন

বিক্ষোভ-সহিংসতায় উত্তাল ফ্রান্সে গ্রেপ্তার ২,৪০০

‍ইউএস বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভের পর সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শনিবারের বিক্ষোভে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন।

বিক্ষোভ ঘিরে সৃষ্ট সহিংসতায় জড়িত সন্দেহে প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববারও রাজধানী প্যারিসসহ কয়েকটি শহরে সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রোববার এলিসি প্রাসাদ থেকে দেওয়া এক জাতীয় ভাষণে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। তিনি বিক্ষোভকারীদের সহিংসতা না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের সহিংসতায় প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর।

কালো পোশাক ও মুখোশ পরা দাঙ্গাকারীদের প্যারিস, মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে গাড়ি ও ভবনে আগুন দিতে দেখা গেছে। প্যারিস, মার্সেই ও লিলসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।

রোববার রাজধানী প্যারিস ও লিওঁ শহরের কয়েকটি এলাকায় তুলনামূলক কম মাত্রায় সংঘর্ষ ও লুটপাট অব্যাহত ছিল। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যারিসে কয়েক শ মানুষের ওপর কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। বিক্ষোভকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও পাথর ছোড়েন।

আগুনে পুড়ল ঐতিহাসিক ভবন

সহিংসতার প্রভাব পড়েছে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে। লিমোজ শহরে শনিবার দাঙ্গাকারীদের দেওয়া আগুনে ১৯ শতকের একটি ঐতিহাসিক নগর ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনের তীব্রতায় ভবনটির ছাদ ও ঘড়ির মিনার ধসে পড়ে।

ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের কাছে দাঁড়িয়ে অ্যানেইস নামের এক নারী বলেন, ‘এটি খুবই কষ্টদায়ক। সরকারের ওপর ক্ষোভ থেকে ঐতিহ্যবাহী ভবন ধ্বংস করা স্বার্থপরতার পরিচয়। এতে সবারই ক্ষতি হচ্ছে।’

জেরার্ড নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘এটি ভয়াবহ ও অবিশ্বাস্য। আমরা খুবই দুঃখিত। আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে দীর্ঘ সময় লাগবে।’

এদিকে, রোববার সকালে প্যারিসের দোকানিরা ভাঙা কাচ সরাতে ব্যস্ত ছিলেন। বিভিন্ন সড়কে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ধ্বংসাবশেষ ও আবর্জনা পরিষ্কার করতে দেখা যায়।

রাজনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট

গত মাসে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দিয়ে আন্দোলনের সূচনা হয়। শনিবার এতে শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য ও সরকারের বিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী যোগ দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেন, বিক্ষোভ প্রদর্শন একটি মৌলিক অধিকার। তবে কয়েক হাজার কট্টর বামপন্থি ব্যক্তি সরকারি ভবন লক্ষ্য করে হামলা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় বিভিন্ন শহরে দোকানপাট লুট ও ভাঙচুরে অংশ নেওয়া অপরাধীরা।

নুনেজের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন কট্টর বামপন্থি দল লা ফ্রঁস ইনসুমিজের নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বিক্ষোভ মোকাবিলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশপ্রধানদের ‘সম্পূর্ণ অযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন। তাদের ‘পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলার বিশেষজ্ঞ’ বলেও আখ্যা দেন তিনি।

অন্যদিকে, কট্টর ডানপন্থি ন্যাশনাল র‍্যালি দলের নেতা মারিন ল্য পেন সহিংসতাকে উসকে দেওয়া রাজনৈতিক শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষোভের অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন।

এমন পরিস্থিতিতে আগামী এপ্রিলে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ফ্রান্সের রাজনৈতিক বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ওই নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থি ও কট্টর বামপন্থি শক্তির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019-2023 usbangladesh24.com